Shehab Munawar প্রকাশিত: ০১ জুন, ২০২২, ০২:৪৩ এএম
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: সব ধরনের ছোট আগ্নেয়াস্ত্র (হ্যান্ডগান) কেনাবেচা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করেছেনকানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। হ্যান্ডগান বলতে এক হাতে ব্যবহারযোগ্য রিভলভার, পিস্তল ইত্যাদি অস্ত্র বোঝানো হয়ে থাকে।
ট্রুডো সরকার একটি নতুন আইনের প্রস্তাব করছে, যা সব ছোট নলের আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যক্তিগত মালিকানা বন্ধ করবে। তবে আইনটি হ্যান্ডগানের বর্তমান মালিকানাকে সরাসরি নিষিদ্ধ করবে না। সম্প্রতি প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে ২১ জন নিহত হওয়ার কয়েক দিন পরেই ট্রুডোর এ প্রস্তাব এলো।
সোমবার (৩০ মে) কানাডার পার্লামেন্টে এ নিয়ে একটি বিল উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের কোথাও হ্যান্ডগান কেনা, বিক্রি, হস্তান্তর বা আমদানি করা অসম্ভব করে তুলবে।
জাস্টিন ট্রুডো বলেন, বন্দুক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় নতুন ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।
“দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি যে দিন দিন খারাপ হয় এবং মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়ে তা কেবল আমাদের দক্ষিণ সীমান্তের দিকে তাকালেই হবে,” বলেছেন তিনি।
নতুন আইনে বন্দুক সংক্রান্ত খেলাধুলায় জড়িত শ্যুটার, অলিম্পিক অ্যাথলেট ও নিরাপত্তারক্ষীদের হ্যান্ডগান কেনায় ছাড় দেওয়া হয়েছে। এখন যে কানাডীয়দের কাছে পিস্তল, রিভলবারের মতো হ্যান্ডগান আছে, তারাও সেগুলো রাখতে পারবেন।
কেনাবেচা বন্ধের সম্ভাবনা থাকায় এখন অনেকে অস্ত্র কিনতে ছুটতে পারেন- কর্তৃপক্ষ এমনটা মনে করছে না বলে সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন এক কর্মকর্তা।
এর অন্যতম কারণ, কানাডায় এখনই অস্ত্র কেনাবেচা ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রিত।
দেশটির বন্দুক সংক্রান্ত আইন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কড়া, বন্দুক সহিংতার পরিমাণও যুক্তরাষ্ট্রের এক-পঞ্চমাংশ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কম হলেও অন্য অনেক ধনী দেশের তুলনায় কানাডায় বন্দুক সংক্রান্ত অপরাধের সংখ্যা বেশি। ২০২০ সালে দেশটিতে এ ধরনের যত অপরাধ হয়েছিল, তা ছিল অস্ট্রেলিয়ার ৫ গুণ।
দুই বছর আগে কানাডায় এক ‘ম্যাস শুটিংয়ের’ ঘটনার পর দেশটির সরকার এআর-১৫ রাইফেলের মতো প্রায় দেড় হাজার অস্ত্রের বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল। আগ্নেয়াস্ত্রের অনেক মালিক সরকারের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতেও গেছেন।
ট্রুডোর দল লিবারেল পার্টির পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও বাম ঘরানার নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির সহায়তা নিয়ে হ্যান্ডগান কেনাবেচা বন্ধের এ আইনটি সহজেই পাস হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি